রিপন সারওয়ার (মুক্তাগাছা): মুক্তাগাছায় ১৬২ বছরের পুরনো কুতুবপুরে শিব বাড়ি মেলার ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতি বছরের ন্যয় এ বছরও শুরু হয়েছে ৩দিন ব্যাপি শিব মেলা। ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে এ শিব চতুর্ধশী মেলা। এ উপলক্ষে শিবমন্দির প্রাঙ্গনে বসেছে ১৬২ বছরের পুরনো মেলা। 

গতকাল সোমবার (২৮ ফেব্রæয়ারী) থেকে ফাল্গুন মাসে শিব চতুর্দশী তিথিতে তিনদিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই দলে দলে সনাতন ধর্মের শত শত ভক্তবৃন্দ এসে ভীড় জমাচ্ছে শিব মেলায়। মেলায় তিন দিনের প্রথম দিনেই এসব ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠছে তীর্থভূমি। ভক্তরা বিভিন্ন ধরনের মানত করে পূজা আর্চনায় ফলমূল সহ কবুতর ও পাঠা বলি দিয়ে মানত রক্ষা করছে। মনোভাসনা পূর্ণ করার জন্যও মানত করছে অনেকেই। আলোচিত এ মেলা ঘিরে বসেছে কয়েক হাজার দোকানপাট।  সোমবার বিকেল থেকে তিনদিন ব্যাপী এ উৎসব শুরু হলেও মঙ্গলবার উৎসবের প্রধান দিন। ভক্তরা মন্দিরে দেবতা শিবের চরণে ফুল-জল আর বেলপাতাসহ নানা নৈবেদ্য নিয়ে নারীরা আসেন দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে। তরুণীরা এসেছেন যোগ্য বর (স্বামী) প্রত্যাশায়। আবার কেউ এসেছেন স্বামীর মঙ্গল কামনায়। শিশুর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় মায়েরাও নানা নৈবেদ্য ও আচার পালন করে দেবতা শিবকে অজ্ঞলি দিতে ভিড় করছেন। ধর্মীয় এ উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বসেছে ১৬২ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। মেলায় নাগরদোলা, খেলনাসহ নানা শিশু উপসর্গ এবং সাংসারিক দ্রব্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। রয়েছে বাহারি মিষ্টির ডালা। এটি মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব হলেও বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে।



মেলায় আসা পূর্ণার্থী শ্রী অধীর চন্দ্র দাস দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন প্রত্রিকার এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি প্রায় প্রতি বছরই এ মেলায় আসি। আমার বাপ দাদারাও এখানে আসতো। আমি আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি এখানকার ইতিহাস অনেক পুরাতন। মুক্তাগাছার জমিদার ছিলো জীবন বাবু। তখন অলৌকিকভাবে এ শিব লিঙ্গের উদয় ঘটে। জমিদার জীবন বাবুর গরু গুলো এখানেই চড়ানো হতো। হঠাৎ একদিন দেখা যায় একটি গরু দুধ দেওয়ার সময় হলে তাকে আর কোন ভাবেই আটকানো যেত না ছুটে চলে আসতো এখানে এবং শিব লিঙ্গের উপরে উলান থেকে দুধ পড়তে থাকতো। এ ঘটনা জমিদার জীবন বাবুর দৃষ্টি গোচর হলে পেয়াদাদের গরু কোথায় যায় তা দেখার জন্য বলেন। পরবর্তীতে পেয়াদারা এ ঘটনা দেখে জমিদার জীবন বাবুকে জানানোর পর তিনি এ শিব লিঙ্গ হাতি দিয়ে টেনে মুক্তাগাছা নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু চেষ্টা করেও কাজে আসেনি। অতপর জমিদার জীবন বাবু স্বপ্ন যোগে দেখেন ঐ শিব লিঙ্গ তাকে বলছে আমি এখানেই থাকতে চাই এবং তামা দিয়ে ঘর নির্মাণ করার জন্য। জমিদার সেই অনুযায়ী কাজ করেন। এরপর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ মন্দিরের তামার ঘরটি লুন্ঠিত হয়ে যায়। বর্তমানে শিব লিঙ্গের সামান্য পরিমাণ উপরে দৃশ্যমান এবং ঐ টুকুতেই সনাতন ধর্মের ধর্মালম্বীরা তাদের পুজা আর্চনা করে চলছে। 


নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক দম্পতি বলেন, সতের বছর বিবাহিত জীবনে সন্তান লাভ ছিল আকাঙ্খা। মানত ছিল যদি সন্তান হয় তাহলে শিব মন্দিরে পূজা করবো। আমার সন্তান হয়েছে তাই শিব মন্দিরে আমার স্বামীকে নিয়ে পূজা করতে এসেছি। 


মেলায় আসা মনিন্দ্র চন্দ্র বলেন, পূর্ণ লাভের আশায় ময়মনসিংহ থেকে এখানে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে শিব দর্শন করতে পেরে। বহুদিন ধরে এখানে আসলেও কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনি। এ মন্দিরটার সংস্কার হলে আরও ভালো লগতো। তাই আমি এ মন্দির উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।