স্টাফ রিপোর্টার: অন্যের বাড়ি তৈরি করার সুযোগ নিয়ে, সেই বাড়িকে নিজের বাড়ি দেখিয়ে, বাড়ি ওয়ালার বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি “উদোর পিন্ডি বুদোর গাড়ে” বলে মনে করছেন এলাকাবাসী সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চড়আধপাখিয়া গ্রামে। চরআধপাখিয়া গ্রামের রেনু বেগম ওরফে গণ বেগম হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে। গণ বেগম গত ২০ জুন মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবে এসে তার এ অসহায়ত্বের কথা সাংবাদিকদের জানান। তিনি জানান, ছোট বেলাই ঢাকায় বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। তার ঘরে রয়েছে পাঁচ কন্যা সন্তান। ঢাকায় বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে এলাকায় ৫ কাঠা জমি ক্রয় করেন। ৩ কাঠা জমি বাড়ি ভিটা এবং ২ কাঠা ফসলি জমি। তার পিত্রালয় থেকে ১টি পুরনো টিনের ঘর এনে ঘর উঠান। ঢাকায় বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। মাঝে মধ্যে বাড়ি এসে থাকতেন। 

গণ বেগমের বড় মেয়ে নাজমা খাতুনকে একই গ্রামের আব্দুর রহমান মন্ডলের পুত্র নুরুল আমীনের কাছে বিয়ে দেন। গণ বেগম তার কোন পুত্র সন্তান না থাকায় বাড়ি ভিটার ২২ শতাংশ জমি পাঁচ কন্যাকে লিখে দেন। সেই সুবাদে নাজমার স্বামী নুরুল আমীন শ^াশুরী গণ বেগমের দেওয়া জমিতে বাড়ি করেন এবং সুযোগ বুঝে তার ভাইকেউ ঐ বাড়িতে ঘর উঠিয়ে দিয়ে ৭ শতাংশ জমি জবর দখল করে নেন। গণ বেগম এর সাথে প্রতারণা করে জামাতা নুরুল আমীন আবাদী ১ কাঠা জমিও লিখে নেয়। তার পরেও গণ বেগম নিরবে সহ্য করে গেছেন কিছু বলেন নি। 

এদিকে বৃদ্ধ বয়সে গণ বেগম নিজ বাড়িতে এসে তার পুরাতন ভাঙ্গা ঘরটি ভেঙ্গে নতুন করে ঘর দেওয়া শুরু করেন। উক্ত ঘর ভাঙ্গা পুজি করে নুরুল আমীন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার স্ত্রী নাজমা বেগমকে বাদী করে ঘর ভাঙ্গা, লুটপাট, আসবাবপত্র, গাছ-গাছালি কেটে নেওয়ার অভিযোগ এনে ময়মনসিংহ বিজ্ঞ জুডিঃ ম্যাজিঃ ২নং আমলী আদালতে মামলা করেন। যার নং-৪৪৬। তারিখ-১০/০৬/২০২১ ইং। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি মুক্তাগাছা থানা পুলিশকে তদন্ত করার নির্দেশ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী মামলাটি মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বলে জানান। ভূমির এবং বাড়ির প্রকৃত মালিক গণ বেগম। গণ বেগম নিজেই তার পুরাতন ঘর ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করছে। মামলার বাদী নাজমা বেগম ও তার স্বামী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এ নিরীহ মহিলার উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। 

অন্যদিকে গণ বেগমের ছোট মেয়ে রেশমা বেগম জানান, আমরা অত্যন্ত গরীব মানুষ। আমি একজনের সহায়তায় লেবাননে চাকুরীতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে নাজমার স্বামী নুরুল আমীনের মাধ্যমে বাড়িতে মায়ের কাছে টাকা পাঠাতাম। কিন্তু নুরুল আমীন আমার মাকে টাকা না দিয়ে আমার ৩ লক্ষ টাকা তার কাছে রেখে দেয়। টাকা চাইলে টালবাহানা করে কাল ক্ষেপন করছে। 

গণ বেগম জানান, আমার মেয়ের জামাত নুরুল আমীন একাধিক বার আমাকে মারধর করেছে। ঘর থেকে গাঢ় ধরে বের করে দিয়েছে। আমি কোন বিচার পাইনি নিরবে সহ্য করে গেছি। আমার কোন পুত্র সন্তান না থাকায় নুরুল আমীন আমার কষ্টার্জিত সম্পদ, টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। 

মামলায় যাদের স্বাক্ষী করা হয়েছে তারা নুরুল আমীনের পরিবারের পিতা, মাতা, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী সহ নিজস্ব আত্মীয় স্বজন। তাদের মধ্যে জাকারিয়া, নুর মোহাম্মদ এলাকার দালাল ও কথিত মামলাবাজ বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলেই নুরুল আমীন ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।